কানের সুরক্ষায় সঠিক অভ্যাস শেখানো

কানের সুরক্ষায় সঠিক অভ্যাস শেখানো

ছোট্ট সোনাদের জগৎটা শব্দে ভরা। পাখির কিচিরমিচির, মায়ের মিষ্টি গান, বাবার মজার গল্প – সবকিছুই তাদের বেড়ে ওঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু এই শব্দময় জগৎ যেন তাদের কচি কানের জন্য ক্ষতির কারণ না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখাটা আমাদের, বাবা-মায়েদের দায়িত্ব। কারণ শৈশবে কানের সামান্য সমস্যাও ভবিষ্যতে বড় ধরনের শ্রবণ সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি করতে পারে। তাই, বাচ্চাদের কানের সুরক্ষায় সঠিক অভ্যাসগুলো ছোটবেলা থেকেই শেখানো জরুরি। আসুন, জেনে নিই কী কী উপায়ে আমরা আমাদের আদরের সন্তানদের কানের যত্ন নিতে পারি।

কানের যত্ন কেন জরুরি?

ছোট বাচ্চাদের কান খুবই সংবেদনশীল হয়। তাদের কানের ভেতরের নালী (Eustachian tube) ছোট এবং প্রায় অনুভূমিক হওয়ায় সংক্রমণ খুব সহজে ছড়িয়ে পড়তে পারে। সাধারণ সর্দি-কাশি থেকেও অনেক সময় কানে সংক্রমণ হয়ে শোনার ক্ষমতা কমে যেতে পারে। এছাড়া, উচ্চ শব্দে গান শোনা, খেলনা থেকে আসা তীব্র আওয়াজ, এমনকি ভুলভাবে কান পরিষ্কার করার কারণেও কানের ক্ষতি হতে পারে। তাই, কানের সুরক্ষা শুধুমাত্র একটি স্বাস্থ্য বিষয়ক বিষয় নয়, এটি আপনার সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যৎ জীবনের ভিত্তিও বটে।

শিশুদের কানের যত্নে জরুরি কিছু টিপস

কানের সুরক্ষায় কিছু সাধারণ নিয়ম মেনে চললে শিশুদের অনেক সম্ভাব্য বিপদ থেকে রক্ষা করা যেতে পারে। নিচে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ টিপস আলোচনা করা হলো:

  • নিয়মিত কান পরীক্ষা: ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী বাচ্চাদের কানের নিয়মিত পরীক্ষা করানো উচিত। বিশেষ করে যাদের ঠান্ডার ধাত আছে বা ঘন ঘন কানে সংক্রমণ হয়, তাদের ক্ষেত্রে এটি আরও বেশি জরুরি।

  • সঠিক উপায়ে কান পরিষ্কার: বাচ্চাদের কান পরিষ্কার করার জন্য কটন বাড (cotton bud) ব্যবহার করা উচিত নয়। কটন বাড দিয়ে কান পরিষ্কার করতে গেলে ময়লা আরও ভেতরে ঢুকে যেতে পারে এবং কানের পর্দায় আঘাত লাগতে পারে। নরম কাপড় বা তোয়ালে দিয়ে কানের বাইরের অংশ আলতো করে মুছে দিন।

  • উচ্চ শব্দ থেকে দূরে রাখুন: বাচ্চাদের উচ্চ শব্দ থেকে দূরে রাখা উচিত। টেলিভিশন বা অন্যান্য ডিভাইসের ভলিউম কম রাখুন। কনসার্ট বা খেলার মাঠের মতো জায়গায় শিশুদের নিয়ে গেলে তাদের কানের সুরক্ষার জন্য ইয়ারপ্লাগ (earplug) ব্যবহার করতে পারেন।

  • সাঁতার কাটার সময় সতর্কতা: বাচ্চারা সাঁতার কাটার সময় কানে পানি ঢুকলে সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই, সাঁতার কাটার সময় ওয়াটারপ্রুফ ইয়ারপ্লাগ (waterproof earplug) ব্যবহার করা উচিত। এছাড়া, সাঁতার কাটার পর কান ভালোভাবে মুছে দিতে হবে।

  • ধূমপান পরিহার করুন: পরোক্ষ ধূমপান (secondhand smoke) শিশুদের কানের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই, বাচ্চাদের আশেপাশে ধূমপান করা থেকে বিরত থাকুন।

    বয়স অনুযায়ী কানের যত্ন

    বাচ্চাদের বয়স অনুযায়ী তাদের কানের যত্নের নিয়মাবলী ভিন্ন হতে পারে। নিচে বয়স অনুযায়ী কিছু টিপস দেওয়া হলো:

  • নবজাতক (০-৬ মাস): এই বয়সে শিশুদের কান খুবই নরম থাকে। তাই, খুব সাবধানে পরিষ্কার করতে হয়। শুধুমাত্র নরম কাপড় দিয়ে কানের বাইরের অংশ আলতো করে মুছে দিন। জোরে শব্দ বা ঝাঁকুনি থেকে তাদের কান বাঁচিয়ে চলুন।

  • টডলার (১-৩ বছর): এই বয়সে বাচ্চারা নিজেরাই অনেক কিছু করতে চায়। তাদের কানের যত্নের বিষয়ে বুঝিয়ে বলুন। কটন বাড ব্যবহারের বিপদ সম্পর্কে তাদের ধারণা দিন।

  • স্কুলগামী শিশু (৪-১০ বছর): এই বয়সের বাচ্চারা খেলাধুলা ও অন্যান্য অ্যাক্টিভিটিতে বেশি জড়িত থাকে। তাই, তাদের কানের সুরক্ষার গুরুত্ব বোঝানো জরুরি। সাঁতার কাটার সময় বা উচ্চ শব্দযুক্ত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সময় কানের সুরক্ষার জন্য কী কী করতে হবে, তা তাদের শিখিয়ে দিন।

    কানের সংক্রমণ (Ear Infection): লক্ষণ ও প্রতিকার

    কানের সংক্রমণ শিশুদের মধ্যে একটি সাধারণ সমস্যা। সময় মতো এর চিকিৎসা না করালে শ্রবণশক্তি কমে যেতে পারে। নিচে কানের সংক্রমণের কিছু লক্ষণ ও প্রতিকার আলোচনা করা হলো:

  • লক্ষণ: কান ব্যথা, কান থেকে তরল নির্গত হওয়া, জ্বর, কান বন্ধ হয়ে যাওয়া, ঘুমের সমস্যা, খিটখিটে মেজাজ।

  • প্রতিকার: কানের সংক্রমণ হলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ডাক্তার সাধারণত অ্যান্টিবায়োটিক (antibiotic) এবং ব্যথানাশক ওষুধ দিয়ে থাকেন। এছাড়াও, ঘরোয়া কিছু উপায় অবলম্বন করে ব্যথা কমানো যায়, যেমন – গরম সেঁক দেওয়া বা লবণ গরম করে কাপড়ের মধ্যে বেঁধে কানের চারপাশে ধরা।

    শিশুদের কানের সুরক্ষায় কিছু ভুল ধারণা

    কানের যত্ন নেওয়ার বিষয়ে আমাদের সমাজে কিছু ভুল ধারণা প্রচলিত আছে। যেমন –

  • কটন বাড দিয়ে কান পরিষ্কার করা ভালো: এটি একটি ভুল ধারণা। কটন বাড দিয়ে কান পরিষ্কার করতে গেলে কানের ময়লা আরও ভেতরে চলে যায় এবং কানের পর্দায় আঘাত লাগতে পারে।

  • কানের ময়লা ক্ষতিকর: কানের ময়লা আসলে কানকে সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। এটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।

  • কানের সংক্রমণ আপনাআপনি সেরে যায়: অনেক সময় কানের সংক্রমণ আপনাআপনি সেরে গেলেও ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি, কারণ সংক্রমণ মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।

    বাচ্চাদের খেলনা ও কানের সুরক্ষা

    খেলনা শিশুদের আনন্দের উৎস হলেও কিছু খেলনা তাদের কানের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। অতিরিক্ত শব্দযুক্ত খেলনা পরিহার করুন। খেলনা কেনার আগে দেখে নিন সেটি যেন শিশুদের জন্য নিরাপদ হয় এবং শব্দের মাত্রা যেন সহনীয় পর্যায়ে থাকে। আমাদের ওয়েবসাইটে আপনি আপনার বাচ্চার জন্য নিরাপদ এবং শব্দ দূষণমুক্ত খেলনা খুঁজে পাবেন। এখনই ভিজিট করুন!

ছোট্ট সোনামণিদের সুস্থ এবং শব্দময় জীবনের জন্য তাদের কানের সঠিক যত্ন নেওয়া আমাদের সকলের দায়িত্ব। সঠিক অভ্যাস তৈরি করুন এবং আপনার সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করুন। আপনার সন্তানের জন্য প্রয়োজনীয় সকল স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ পণ্য এখন আমাদের ওয়েবসাইটে উপলব্ধ। আজই আপনার পছন্দের পণ্যটি কিনুন!

Subscribe to News
Comments(0)
No Comments Yet. Write First Comment.
Submit Comment
More Comments
Submit

আরো পড়তে পারেন

Subscribe to News